জ্ঞানযোগ সম্পর্কে জানুন
জ্ঞানযোগ--
মোক্ষলাভের অন্যতম উপায় হচ্ছে জ্ঞানযোগ৷জ্ঞানের অনুশীলন দ্বারা পরম সত্তায় উপনীত হওয়ার পদ্ধতি জ্ঞানযোগ৷ শাস্ত্রে আত্মতত্ত ও পরমার্থতত্ত জানাকে জ্ঞান বলা হয়েছে৷ আর জ্ঞানের পথে স্রষ্টাকে জানার যে সাধনা তাকে বলে জ্ঞানযোগ৷ জ্ঞানী জগৎ ও জীবের প্রকৃতি ও পরিণতি জেনে সৃষ্টির উর্ধ্বে স্রষ্টাকে অন্তরে অনুভব করেন৷ তিনি উপলব্ধি করেন তার নিজের মধ্যে এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা অবস্থান করছে৷ জগতের সবকিছু সেই পরম চৈতন্যের দ্বারা চৈতন্যময় ৷এই চৈতন্যই আত্মা বা জীবাত্মা৷ জ্ঞানী আরও উপলগ্ধি করেন প্রত্যেক জীবের মধ্যে যে জীবাত্মা রয়েছে তা বিশ্ব আত্মা বা পরমাত্মা ৷জ্ঞানীর দৃষ্টিতে পরমাত্মার স্থান ধরা বিশ্ব চরাচরের মধ্যে৷ তবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সেই পরমতত্ত ধরা পড়ে না৷কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ঈশ্বরের মায়া শক্তি দ্বারা জীব আচ্ছন্ন থাকে৷ তার নিকট আত্মতত্ত বা পরমতত্ত প্রকাশিত হয় না৷ তবে ঈশ্বরের অনুগ্রহে যখন মায়ার প্রভাব কেটে যায় তখন জীব আত্মতত্তজ্ঞ এবং ব্রক্ষজ্ঞ হতে পারে৷ এভাবে তার সর্বত্র সমবুদ্ধি জম্মে বাসনা শুদ্ধ হয় সুন্দর হয় তার আচরন ৷তখন সাধকের অহংকার থাকে না ৷ হিংসা থাকে না৷ গুরু সেবা দেহ মন পবিত্র থাকা জ্ঞানের বিষয়ে জানার আগ্রহ , ক্ষমা এ সকল গুণ তার মধ্যে প্রকাশ পায় ৷ শ্রীমদভগবদগীতার চতুর্থ অধ্যায়ে জ্ঞানীর বিশটি লক্ষণের উল্লেখ আছে৷ জ্ঞানী কর্মতত্ত উপলব্ধি করে থাকেন৷ তাই তার কর্ম হয় নিষ্কাম ৷শ্রীমবভগবদ গীতার জ্ঞানযোগ অধ্যায়ে কর্মতত্ত সম্পর্কে তিনটি কথা রয়েছে -কর্ম,অকর্ম,বিকর্ম৷ শাস্ত্রবিহিত যে সকল কর্ম করতে হয় সেগুলোকে বলে কর্ম৷ আর যা শাস্ত্র নিষিদ্ধ সেগুলো হচ্ছে বিকর্ম৷ আর কোনো কাজ না করাকে বলা হয় অকর্ম ৷কর্মতত্ত গহীন অরণ্যের মতো৷
সেখানে জ্ঞানী তার জ্ঞানালোকে কর্তব্যকর্ম নির্ণয় করে থাকেন৷জ্ঞান অনুশীলনে মানুষের সমস্ত রকম দুঃখ তাপ দূর হয়৷ ভক্ত মাত্রই ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র হলেও গীতায় জ্ঞানী ভক্তই ভগবানের বেশি প্রিয় (গীতা ৭/১৭) ৷জ্ঞান অর্জনের জন্য গীতার নির্দেশ হচ্ছে তত্তদর্শী গুরুর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে প্রণাম বন্দনা করতে হবে,সেবা কর্ম দ্বারা তাঁকে তুষ্ট করতে হবে এবং বিনীতভাবে তাকে প্রশ্ন করতে হবে৷সেবা কর্মে তুষ্ট আত্মতত্ত্বজ্ঞ গুরু তখন জ্ঞানপ্রার্থীকে উপদেশ দিয়ে থাকেন৷ জ্ঞান লাভে ইচ্ছুক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে-
শ্রদ্ধবান লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ৷
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি (৪/৩৯)
অর্থ্যাৎ তিনি শ্রদ্ধাবান একনিষ্ঠ সাধন তৎপর এবং জিতেন্দ্রিয় তিনি জ্ঞান লাভ করেন৷
সংক্ষেপে জ্ঞানযোগের ফল হচ্ছে--
১-জ্ঞান পরম পবিত্র সকল অপবিত্রতাকে দূর করে দেওয়ার ক্ষমতা জ্ঞানের রয়েছে৷
২-জ্ঞানীর পাপ বিনষ্ট হয়৷ জ্ঞানের উদয়ে অজ্ঞানতা থাকতে পারে না৷
৩-জ্ঞানীর কর্ম বন্ধন থাকে না৷ তাই জ্ঞানী পরম সুখে অবস্থান করেন৷ জ্ঞান লাভের জন্য আমরা সবাই যত্নশীল হব
জ্ঞানযোগ সম্পর্কে জানুন
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:
No comments: